খবরদিন

সম্পাদকীয় ও যাচাই নীতি

তথ্য পাওয়ার পর কী হয়

কোনো তথ্য বা অভিযোগ জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা প্রকাশিত হয় না। প্রথমে তথ্যের বিষয়বস্তু, প্রাসঙ্গিকতা এবং সঙ্গে দেওয়া প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়।

প্রয়োজনে তথ্যদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত তথ্য বা ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।

আমরা কীভাবে যাচাই করি

ঘটনার ধরন অনুযায়ী যাচাইয়ের পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আমরা—

  • জমা দেওয়া ছবি, ভিডিও বা নথির সঙ্গে ঘটনার বর্ণনার সামঞ্জস্য দেখি;
  • তারিখ, স্থান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করি;
  • নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য উৎস বা সংশ্লিষ্ট নথির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখি;
  • প্রয়োজন হলে প্রত্যক্ষভাবে জানেন এমন ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করি;
  • দাবি, অভিযোগ এবং প্রতিষ্ঠিত তথ্যকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করি।

কোনো তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে সেটিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করার চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগ মানেই প্রমাণিত সত্য নয়

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লেই সেই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়ে যায় না।

প্রকাশের প্রয়োজন হলে বিষয়টি “অভিযোগ”, “দাবি” বা উপযুক্ত প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হবে, যতক্ষণ না সেটিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য

গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগে সম্ভব ও প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হতে পারে।

তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। বক্তব্য না পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হতে পারে।

আমরা কী প্রকাশ করি

জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ, প্রাসঙ্গিক এবং প্রকাশের জন্য যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে—এমন তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

বিশেষ করে নাগরিক সমস্যা, অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ, হয়রানি, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এবং জনজীবনে প্রভাব ফেলে এমন বিষয় প্রকাশের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

আমরা কী প্রকাশ করি না

শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রতিশোধ বা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে পাঠানো তথ্য প্রকাশের জন্য গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত নাও হতে পারে।

ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন তথ্য এবং যাচাইয়ের ন্যূনতম ভিত্তি নেই এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

পরিচয় ও সংবেদনশীল তথ্য

একটি ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করা এবং তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশ করা এক বিষয় নয়।

তাই প্রতিবেদনের জন্য প্রয়োজন না হলে তথ্যদাতার নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল, ব্যক্তিগত ঠিকানা বা অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয় না।

ছবি, ভিডিও বা নথিতে সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য থাকলে প্রকাশের আগে তা গোপন বা বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হয়।

ছবি, ভিডিও ও নথি

তথ্যদাতার পাঠানো প্রতিটি ছবি, ভিডিও বা নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না।

কোন অংশ জনস্বার্থে প্রকাশ করা প্রয়োজন এবং কোন অংশ ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল—সেটি বিবেচনা করেই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিরোনাম ও উপস্থাপন

শিরোনাম বা প্রতিবেদনের ভাষা এমনভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয় যাতে তথ্যের প্রকৃত অর্থ বিকৃত না হয়।

অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে, মতামতকে তথ্য হিসেবে অথবা অসম্পূর্ণ তথ্যকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন না করাই আমাদের নীতি।

ভুল হলে সংশোধন

আমাদের প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত ভুল পাওয়া গেলে তা যাচাই করে যথাসম্ভব দ্রুত সংশোধনের চেষ্টা করা হবে।

পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিবেদন সংশোধন, হালনাগাদ অথবা অপসারণ করা হতে পারে।

সংশোধন বা বক্তব্য জানানোর সুযোগ

কোনো প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিজের বা নিজের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে বলে মনে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

সংশোধনের পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য বা প্রমাণ দেওয়া হলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের অঙ্গীকার

আমাদের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে অযথা অভিযুক্ত করা নয়; আবার জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে অকারণে আড়াল করাও নয়।

সত্যতা, ন্যায্যতা, গোপনীয়তা এবং জনস্বার্থ—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখেই খবর দিন-এর সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।


শেষ হালনাগাদ: সেপ্টেম্বর ২০২৬